ইন্সটাগ্রাম

ইন্সটাগ্রামের না বলা কথা: ইন্সটাগ্রামের অন্ধকার জগত

ছবি এর জন্য ইন্সটাগ্রাম বাহ ইন্সটাগ্রাম এর জন্য ছবি দুটো কথা দ্বারা ইন্সটাগ্রাম এর অভিপ্রায় প্রকাশ এর জন্য যথেষ্ট। ছবি ছাড়ার এই মাধ্যম ইন্সটাগ্রাম এই কথা দ্বারা কিন্তু ইন্সটাগ্রাম এর বিস্তার ব্যাখা করা যায় না।
ইন্সটাগ্রাম এর উৎপত্তি, পূর্ব নাম,আবিষ্কারক এই রকম আরো অনেক না বলা তথ্য আছে। সেই না বলা কথা গুলো আজ খুলে বলা যাক।

ইন্সটাগ্রাম এর উৎপত্তি

ইন্সটাগ্রাম এর সাথে যে নামটা ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত তা হলো মার্ক জুকারবার্গ। তবে ইন্সটাগ্রাম এর আবিষ্কারক হিসেবে মার্ক জুকারবার্গ এর নাম বলা টা ভুল। কেভিন সিসট্রোম, যাকে ইন্সটাগ্রাম এর জনক বলা হয় ।

তখনকার সময় ফেসবুক এর উৎপত্তি ঘটে তবে ফেসবুক পুরো পৃথিবী এর জন্য চালু হয়নাই। শুধুমাত্র বিশ্বের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় এর জন্য চালু হয়েসিলো। কেভিন কে মার্ক প্রস্তাব দেয় ফেসবুক এর জন্য এমন পদ্ধতি চালু করার যেখানে ছবি প্রচার করা যাবে। তবে কেভিন মার্ক এর প্রস্তাব কে নাকোঁচ করেন। এবং তার পরে সে নিজের গন্তব্য এর পথে র‌ওনা দেয়। কেভিন নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইতালি তে পাড়ি দেন। এবং ফটোগ্রাফি বিষয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। ইতালি থেকে ফিরে আসার পর ওডিও নামের এক টেক কম্পানি এর সাথে কাজ শুরু করেন কেভিন। জ্যাক ডোরসে , যে এক সময় কেভিন এর বন্ধু এবং কেভিন কে আগাম ধারনা দেয় টুইটার এর বিস্তারতা কত বিশাল হতে পারে। তবে কেভিন তার কথাকে গুরত্ব না দিয়ে টুইটার ছেড়ে দেয়। ইতোমধৌ কেভিন বর্তমান বিশ্ব এর বড় বড় কোম্পানি এর অফার ছেড়ে দিয়েসেন। এর কারন বলা যেতে পারে কেভিন নিজের নামে কিছু করতে চেয়েসেন। এবং তারপর এক বছর এর মধৌ কেভিন কাজ নিজের এপ বানিয়ে ফেলেন। বারবন নামের এপ যেখানে মানুষ তাদের ছবি শেয়ার করতে পারে যেমন তারা কোথায় আছে, কোথায় যেতে চায়, কোথায় কাজ করে এমন তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।বারবার মোবাইল এপ হ‌ওয়ার স্বত্তেও অনেক বৈশিষ্ট্য ছিলো এ যা ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারতো না।

একসময় কেভিন এর বারবন এ ৫০০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করা হয়। অবশ্য প্রথম ৫০ হাজার ডলার ইনভেস্ট করার জন্য কেভিন আকর্ষিত করে ইনভেস্টার দের । পর্যাপ্ত অর্থ এর পর কেভিন তার সাথে কাজ করার জন্য একজন লোক নিয়োগ দেন। মাইক ক্রিজার , যে বারবন এর একজন পুরোনো ব্যবহারকারী ছিলেন। কেভিন এর কাছে অর্থ এবং সহযোগী থাকার স্বত্তেও বারবন ছিলো না বেশি খ্যাত । তাই কেভিন সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবহারকারী দের কাছে থেকে পরামর্শ নিতে যে বারবন সম্পর্কে কোন জিনিসটা তাদের বেশি আর্কষন করে। তারা বারবন এর তথ্য আদা-প্রদান করার বৈশিষ্ট কে গুরত্ব না দিয়ে ছবি ছাড়া এবং ছবি শেয়ার করার বৈশিষ্ট্য কে বেশি উপভোগ করে। কেভিন তার সহযোগী এর সাথে কথা বলে বারবন কে ইন্সটাগ্রাম এ রুপান্তর করে। ইন্সটাগ্রাম হলো ইনস্টান ও টেলিগ্রাম এর সম্মলনে তৈরি। এবার কেভিন তার এপ কে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ করেন যে অনেকেই অভিযোগ করে যে তাদের ছবি এর চেয়ে অন্যদের ছবি বেশি ভালো হয়। তখন কেভিন ফিল্টার নামে এঅ বৈশিষ্ট্য এর উদ্বোধন করেন তার এপ এ । ইতিমধৌ অনেক এপ ছিলো যেখানে ফিল্টার ব্যবহার করা হয় তবে সেই ছবি সরাসরি শেয়ার করার মাধ্যম ছিলো না যা ইন্সটাগ্রাম এ আছে। আর ইন্সটাগ্রাম এর সাফল্য এর পেছনে এই একটা কারন উল্লেখ করা যায়। এভাবেই ৬ অক্টোবর,২০১০ এ সাধারন জনগন এর জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন -   সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব

অনন্য এবং মূল্যবান হয়ে উঠার পেছনের গল্প

২৫ হাজার থেকে এক লাখ ব্যবাহারকারী , হুম এরকম অভাবনীয় সাফল্য দেখা যায় ইন্সটাগ্রাম এ তাও আবার মাত্র এক মাস এর মধৌ।এর পেছনে কিছু কারন উল্লেখ করা যায় ।

যেমন, সহজেই ফিল্টার দেওয়া ছবি ইন্সটাগ্রাম এ প্রচার করা যায়। ঝামেলা ছড়াই। অবশ্য‌ই আজকের বিশ্বে শুধু একটা ছবি না সুন্দর, মানাস‌ই, যুগোপযোগী ছবি এর মূল্য অনেক বেশি। এক্ষেত্রে ইন্সটাগ্রাম এর বিকল্প নেই। তারপর এ ইন্সটাগ্রাম যেকোন ও স্থিরচিত্র বাহ চলমানচিত্র ধারনকারী দের জন্য তাদের দক্ষতা প্রকাশ করার উপযুক্ত জায়গা। এবং সেরকম নকশা এর ব্যবস্থাও রয়েছে ইন্সটাগ্রাম এ।

ইন্সটাগ্রাম এর এমন সাফল্য কেভিন এর জন্য দুশ্চিন্তা এর কারন হয়ে দাঁড়ায়। যখন ব্যবহারকারী সঠিক ব্যবস্থার আওতায়া থাকতে পারে না। এ সমস্যা আরো বেরে যায় যখন নামী দামি মানুষ জন ইন্সটাগ্রাম এ যোগ দেন। প্রথম বিখ্যত ব্যাক্তি যে ইন্সটাগ্রাম এ জয়েন হয় তা জাস্টিন বিবার। এবং তার প্রচারকৃত ছবি ছিলো হাজার তরুণীদের ইন্সটাগ্রাম এ যোগ দেওয়ার অন্যতম কারন। এভাবে ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবহারকারী এর সংখ্যা বেরে গেলেও বাড়ে না কর্মী ছর সংখ্যা। কেভিন , মার্ক ও তাদের সাথে আর দুজন এরকম চারজন ইন্সটাগ্রাম এর জন্য কাজ করে। ২০১২ এর মধৌ সেই কর্মচারী এর সংখ্যা ১৩‌ জন এ এসে পৌছায়। ইন্সটাগ্রাম এর দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলেও এর সাফল্য উপভোগ্য ছিলো না। ইতিমধৌ এরকম সাফল্য এপ এর জনক কেভিন এর জীবনে পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন ম্যাগাজিন, টিভি তে কেভিন এর আনাগোনা হয়। এবং এমন বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ এর সাথে কেভিন এর উঠা বসা শুরু হয়। তেমনি একদিন আরিয়ানা গ্রান্ডে কেভিন কে ইন্সটাগ্রাম এ মেয়েদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করে।

এদিকে ইন্সটাগ্রাম এ ডিজিটাল বাণিজ্য ও শুরু হয়। বিখ্যাত ব্রানড গুলো বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ কে তাদের জিনিস ছবি প্রচার করার জন্য অল্থ দিতে শুরু করে। এভাবেই ইন্সটাগ্রাম এর কর্মীদের দুশ্চিন্তা এর কারন হয় । বিশেষ করে সাধারণ এবং বিখ্যাত ব্যাক্তবর্গ এর মধৌ পার্থক্য করতে।

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন -   ফেসবুক মার্কেটিং কি? ফেসবুক মার্কেটিং করার সহজ উপায়

ইন্সটাগ্রাম এর অধিগ্রহন

বহুল প্রচরিত ইন্সটাগ্রাম এর জনক কেভিন এর ডাক পড়লো টুইটার সি-ই-ও এর অফিস এবং সেখানে ইন্সটাগ্রাম বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব পায় সে। এবং এদিকে ফেসবুক এর প্রিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ও ইন্সটাগ্রাম কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় কেভিনকে এক বিলিয়ন ডলার এর বিনিময়ে। এবং ফেসবুক এর বৈশিষ্ট্য গুলো ইন্সটাগ্রাম এ ব্যবহার এর মাধ্যম এ ইন্সটাগ্রাম এর ব্যাপ্তি আরো বাড়বে। এবং কেভিনকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে ফেসবুক এর অংশ হলেও কেভিন স্বাধীনভাবে ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করতে পরবেন। এবং সবার জন্য অবাক করার ব্যাপার হলেও কেভিন মার্ক এর প্রস্তাব এ রাজি হয়ে যায়। এবং এই অধিগ্রহন ঘটে ২০১২ সালে । এত অর্থ এর বিনিময়ে মাত্র ১৮ মাস বয়সী মোবাইল এপ ক্রয় এর আগে বিশ্ব দেখে নাই।

ইন্সটাগ্রাম এর অন্ধকার জগত

১৪ বছর বয়সী মলি রাসেল নামের এক বালিকা আত্মহত্যা করে। এবং কারন হিসেবে উল্লেখ করে যে তাকে ইন্সটাগ্রাম এ আপত্তিকর ছবি প্রকাশ এর জন্য চাপ দেওয়া হয়। যার পিতা বলেন যে ইনসৃটাগ্রাম তির সন্তান কে কেড়ে নেয়। হুম ,এখানে একটা মোবাইল এপ এর কোনো দোষ নাই ইন্সটাগ্রাম কে শুধু একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার দ্বারা অনেক আপত্তিকর হুমকি, হয়রানি করা হয়। এমনকি ট্রোল করা হয় বিখ্যাত ব্যাক্তিবর্গ দের।

একটা ভালো ছবি শেয়ার করা প্রতিযোগিতা এর মতন হয়ে দাঁড়ায়। ছবি আসার জন্য অনেক বিপজ্জনক স্থানে যাওয়া হয় আবার প্রকৃতি এর ও ক্ষতি করা হয় অনেক সময়। আর এসব করা হচ্ছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এ প্রকাশ করার জন্য। একটি গবেষণা তে দেখা গিয়েসে ২০১১-২০১৭ তে ২৫৯ মৃত্যু ঘটেছে শুধুমাত্র সেলফি তুলতে গিয়ে। আবার অনেক সময় ইন্সটাগ্রাম এর ফিল্টার মানুষ এর আসল আসল রূপ লুকিয়ে রাখে তাদের শরীর বাহ চেহারা এর গড়ন ,আকৃতি তে পরিবর্তন নিয়ে আসে।

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন -   ফেসবুক মার্কেটিং কি? ফেসবুক মার্কেটিং করার সহজ উপায়

ইন্সটাগ্রাম কে ব্যবহার করে এমন ঘটনা চিন্তা এর কারন হয়ে দাঁড়ায় ইন্সটাগ্রাম এর পুরাতন কর্মীদের। এবং হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু হয় ইন্সটাগ্রাম কে সরিয়ে ফেলার জন্য। এই মাধ্যম এর অপব্যবহার কারন হয়ে দাঁড়ায় মানসিক অশান্তি এর ব্যবহারকারী দের কাছে।

ফেসবুক বনাম ইন্সটাগ্রাম

ইন্সটাগ্রাম এর অভাবনীয় সাফল্য ফেসবুক এর জন্য ক্ষতি এর কারন হয়ে যায়। ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারী এর সংখ্যা ফেসবুক থেকে বেড়ে যায় বলা হয় ফেসবুক থেকে ব্যবহারকারীরা ইন্সটাগ্রাম এর পথে চলে আসছে। যা জাকারবার্গ এর জন্য চিন্তার কারন। কেভিন স্বতন্ত্র ভবে ইন্সটাগ্রাম এর কাজ করতে চাইলেও তা আস্তে আস্তে ফেসবুক এর দখলে চলে আসে। বলা যায় কেভিন যেভাবে ইন্সটাগ্রাম এর ব্যবস্যা এর প্রচার এ কাজ করতে চায় জাকারবার্গ তাতে হস্তক্ষেপ করে। এবং কেভিন জাকারবার্গ এর প্রস্তাবে কখনোই রাজি সম্মতি জানাতে পারে না। একসময় কেভিন উপলব্ধি করে ইন্সটাগ্রাম এর উপর তার অধিকার আর নেই।

কেভিন বিরতি নেয় এবং সেই বিরতি বেড়েই চলে বিরতি থেকে ফিরে ইন্সটাগ্রাম ছাড়ার প্রস্তাব জানায়। কেভিন এবং মাইক ইন্সটাগ্রাম ছেড়ে দেওয়া বাকা কর্মচারীদের জন্য অভাবনীয় এবং অবিশ্বাসযোগ্য। আর এভবেই ইনস্টগ্রাম ফেসবুক এর আদলে চলে আসে সম্পূর্ণ। এখন দুই এপ এর মধৌ ব্যবহারকারী এর জন্য বন্ধন সৃটিকরা হয়। এবং ইন্সটাগ্রাম এর নাম এর সাথে ফেসবুক থেকে উৎপত্তি কথাটা দৃশ্যমান হয়।

ভাল লাগলে ব্লগটি শেয়ার করুন-
Suhanur Rahman
Suhanur Rahman

সোহানুর রহামান, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ওয়েব-ডেভেলপার। ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং বিল্ডিং এবং কাস্টমাইজেশনে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়াও - ওয়ার্ডপ্রেস, জাভা, HTML5, CSS3, PHP, JavaScript, অ্যাডোব ফটোশপ -এ সমৃদ্ধ জ্ঞান রয়েছে। 

Articles: 20

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *